বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা পরিচিত কার্বন বাজেট হিসেবে। যদিও প্রায় সিকি শতক বাকি থাকতেই এ কার্বন বাজেটের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বিশ্ববাসী। নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর ভেনিজুয়েলায় জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরিবেশবিদরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি খাত নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে যে মাত্রায় নিঃসরণ বাড়বে তাতে অবশিষ্ট কার্বন বাজেটের প্রায় ১৩ শতাংশ খরচ হয়ে যেতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা ক্লাইমেট পার্টনারের বিশ্লেষণ অনুসারে, লাতিন আমেরিকার দেশটিতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেলের মজুদ। ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল বেশি কাজে লাগানোর যেকোনো উদ্যোগ বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করবে।
এমন পরিস্থিতি বাস্তবে ঘটার আশঙ্কা কম। অনেক বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও ভেঙে পড়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনিজুয়েলার কূপগুলো চালু করতে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় জ্বালানি তেল উত্তোলন করব, যা খুব কম মানুষই আগে দেখেছে।’
ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল উত্তোলন কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে তার মডেল তৈরি করেছে ক্লাইমেট পার্টনার। এতে ধরা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক উত্তোলন পাঁচ লাখ ব্যারেল বাড়বে এবং ২০৩৫-৫০ সাল পর্যন্ত তা বেড়ে দৈনিক ১৫ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছবে। পরিস্থিতি এমন হলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে অবশিষ্ট কার্বন বাজেটের ১৩ শতাংশ খরচ হয়ে যাবে। অবশ্য ১৯৯০-এর দশকে ভেনিজুয়েলায় সর্বশেষ বৃহদায়তনে উত্তোলনের সময়কার দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেলের তুলনায় ক্লাইমেট পার্টনার অনুমতি পরিমাণ অনেক কম।
শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার বিশাল মজুদ থেকে উত্তোলিত জ্বালানি তেল বিশ্বের সবচেয়ে দূষণকারী জ্বালানি তেলের মধ্যে পড়ে। এ জ্বালানি তেলকে ‘হেভি’ ও ‘সাওয়ার’ গ্রেড হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এর ঘনত্ব অনেক বেশি, টারের মতো আঠালো এ জ্বালানি তেলে সালফারের পরিমাণও বেশি।
এ ধরনের তরল প্রচলিত জ্বালানি তেলের মতো সহজে প্রবাহিত হয় না; সৌদি আরবের মতো দেশের হালকা ও কম সালফারযুক্ত জ্বালানি তেলের তুলনায় এগুলো মাটি থেকে তুলতে অনেক বেশি জ্বালানিনির্ভর প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস অ্যানালিটিকসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভেনিজুয়েলার ওরিনোকো বেল্টের জ্বালানি তেল মজুদ বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী।